‘মেসি ম্যানিয়া’য় অবাক ফুটবল বিশ্ব
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের আগেই কি শনিবার নিজের ক্যারিয়ারে সেরা গোলটা করে ফেললেন লিওনেল মেসি? না কোপা দেল রে-তে ‘মেসি ম্যাজিক’ ৬ জুন বার্লিন ফাইনালের স্রেফ একটা ট্রেলার ছিল? গোটা সিনেমাটা এখনও বাকি?
উত্তর খুঁজতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে ফুটবল বিশ্বে। কোপা দেল রে ফাইনালে বার্সেলোনার দাপুটে জয়, ২৭তম কোপা দেল রে ট্রফি জয়ের রেকর্ড, মওসুমের দ্বিতীয় ট্রফি, বার্সার বিখ্যাত এমএসএন-এর (মেসি, সুয়ারেজ, নেইমার) আগুনে ফর্ম, সব প্রত্যাশামতই হল। কিন্তু ম্যাচে মেসির জোড়া গোলের প্রথমটা যেভাবে এল তাতে ফুটবল বিশ্ব ফের আক্রান্ত মেসি ম্যানিয়ায়।
প্রায় মাঝমাঠ থেকে ডান প্রান্ত ধরে পাঁচজন অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের খেলোয়াড়কে টপকে গোলপোস্টের প্রায় ১০ গজ দূর থেকে শট। মেসির ম্যাচের প্রথম গোল ঠিক এভাবেই আসে। যার পর খেলোয়াড়রা তো বটেই স্টেডিয়ামের দর্শকরাও প্রথমে বিস্ময়ের ঘোর কাটাতে পারেননি। বার্সা কোচ লুই এনরিকে তো ম্যাচের শেষে বলেছেন, ‘আমরা মেসিকে চিনি। প্র্যাকটিসে প্রত্যেকদিন ওর উপস্থিতিটা উপভোগ করি। আর এই ম্যাচে প্রথম যে গোলটা ও করল ওটা ঠিক অন্য গ্রহের’।
এখানেই শেষ নয়। মেসির পর বার্সার গোল উৎসবে যোগ দেন নেইমার। ম্যাচ শেষের মিনিট পনেরো আগে মেসির দ্বিতীয় গোল। পরে বিলবাওয়ের ইনাকি সান্ত্বনার গোল পেলেও ততক্ষণে বার্সার মরসুমের দ্বিতীয় ট্রফি জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে কাতালান সমর্থকদের বার্লিনে আগুনে মেসিকে দেখার আশাও।
মেসির প্রথম গোলটিই এখন টক অব দ্য ফুটবল ওয়ার্ল্ড। কেউ বলছেন বিস্ময়কর, কেউ বলছেন অবিশ্বাস্য। কেউ বলছেন, ভিন্ন গ্রহ থেকে কেউ এসে মেসির পা দিয়ে গোলটি করিয়েছে। কারও চোখে, তার দেখা জীবনের সেরা গোল। মেসি ম্যানিয়ায় আক্রান্ত এমন হাজার হাজার ভক্ত ঝাঁপিয়ে পড়েঠেছন টুইটারে। নিজের মনের কথা জানাতে মোটেও দ্বিধা করছেন না তারা।
সিড লো নামে এক ভক্ত লিখেছেন, ‘পুরো খেলাকে পরিবর্তন করে দেওয়া এবং পুরো স্টেডিয়ামকে উদ্বেল করে তোলার মত একটি গোল দেখলাম। মেসি যা করেছে, তাকে সত্যি কথায়, বর্ণনা করা কঠিন। আমার মতই সম্ভবত সবাই অবাক এই গোল দেখে।’
সাবেক ইংলিশ ফুটবল তারকা গ্যারি লিনেকার মজা করে টুইট করেছেন, ‘মাত্রই মেসির গোলটি দেখলাম। একেবারেই হাস্যকর!’ ডেভিড বেকহাম টুইট করেছেন, ‘ওয়াও, মেসি জাদু!’
No comments:
Post a Comment