Tuesday, June 9, 2015

যে কারণে মরতে হলো চিত্রনায়িকা আরতিকে

যে কারণে মরতে হলো চিত্রনায়িকা আরতিকে


নায়িকাদের হতে হবে স্বপ্নসুন্দরী৷ দর্শকের কল্পনাকে ভরিয়ে দিতে তাদের থাকতে হবে একেবারে মাপে মাপে৷ কোথাও এতটুকু এদিক ওদিক হলেই কেরিয়ার বরবাদ৷ এই চাপ নায়িকাদের সারাক্ষণই তাড়া করে বেড়ায়৷ সেই চাপই কি মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল ভারতের তামিল অভিনেত্রী আরতিকে? তার আচমকা মৃত্যুর পর ইন্ডাস্ট্রির আনাচে কানাচে ঘুরছে এরকমই প্রশ্ন৷
মাত্র ৩১ বছর বয়সে আচমকাই মৃ্ত্যু হয় আরতি আগরওয়ালের৷ জানা যায়, লিপোসাকশন অপারেশনের কারণেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি৷ প্রথমে হায়রাবাদের এক ডাক্তারের কাছে মেদ ঝরানোর অপারেশনের জন্য গিয়েছিলেন অভিনেত্রী৷ কিন্তু ডাক্তার সে অপারেশনে নারাজ হন৷ কেননা আরতি এমন মেদবহুল ছিলেন না যে, এই অপারেশন করা যায়৷ পরে আমেরিকায় গিয়ে তিনি এই অপারেশন করান৷ আর তাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি৷ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন মেদ ঝরানোর এই অপারেশন বিপজন্নক৷ কারণ শরীরে যে পরিমাণ মেদ অপারেশনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হচ্ছে তার বিকল্প হিসেবে শরীরে পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ করতে হয়৷ - কেজি মেদ ঝরানো ঠিক হলেও, পরিমাণ যদি - কেজি হয়, তবে ব্যাপারে মারাত্মক সতর্কতা নিতে হয়৷ নচেত বিপদ অবশ্যম্ভাবী৷ সম্ভবত এই ভারসাম্য ঠিকঠাক বজায় না থাকার কারণেই বিপদ ঘনায় আরতির ক্ষেত্রেও৷
দেখতে আরও বেশী সুন্দর হওয়ার জন্য নায়িকাদের সার্জারি নতুন কিছু নয়৷ বলিউডে শিল্পা শেঠিরনোজ সার্জারিএকসময় চর্চার বিষয় ছিল৷ মাত্র ১৮ বছর বয়সে, কেরিয়ারে দ্বিতীয় ছবিতেইএই অপারেশন করান শিল্পা৷ পরে তিনি জানিয়েছিলেন, এই অপারেশন আদতে তাকে বেকায়দাতেই ফেলেছিল৷ একই মত অভিনেত্রী কোয়েনা মিত্ররও৷নোজ সার্জারি পর নাকের আশেপাশের হাড় ফুলে যেতে শুরু করে৷ একসময় ডাক্তাররাও হাল ছেড়ে দেন৷ তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় বড় কিছুর হাত থেকে বেঁচে যান কোয়েনা৷

ছবিতে ভালো দেখাতে গিয়ে পরিচালকরাও নায়িকাদের এরকম সার্জারি করার পরামর্শ দেন বলে মনে করেন বলিউডের একাংশ৷ আবার কেউ কেউ মনে করেন, সিদ্ধান্ত একান্তই নায়িকাদের৷ তারাই কেরিয়ারের জন্য এরকম সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন৷ আর এতেই উঠছে প্রশ্ন৷ তবে কি সেরা নায়িকাদের দৌড়ে থাকতে গিয়েই এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরতি৷ তাতে ইন্ডাস্ট্রির ক্রমবর্ধমান চাপ অস্বীকার করা যায় না৷ নায়িকাদের শরীরকে বিপণনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন অনেক পরিচালকই৷ মাইনাস ডিগ্রিতেও শরীর প্রদর্শনে বাধ্যহন তারা৷ সেটাই ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা৷ সেরকমই আর এক চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত স্লিম থাকা৷ তাই হয়তো ডাক্তারি প্রয়োজন না থাকলেও মেদ ঝরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরতি৷ সিনেমাকে নারীশরীর প্রদর্শনের মাধ্যম করে না তুললে হয়তো আরতিকে মেদ ঝরিয়ে অকালে ঝরে যেতে হতো না৷

No comments:

Post a Comment