তিস্তা চুক্তির প্রস্তাব ঝুলেই থাকল
এক সপ্তাহ আগেই ভারত
স্পষ্ট জানিয়ে
দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির
এ সফরে
তিস্তা চুক্তি
হচ্ছে না।
কারণ এ
চুক্তির বিষয়ে
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সম্মতি মেলেনি।
এ সফরে
না হলেও
কবে নাগাদ
হবে সে
বিষয়েও কোনো
আভাস নেই
সরকারি মহলে।
তবে পানির
স্বার্থকে পুঁজি করে ভোটের রাজনীতির
সুরাহার জন্য
অন্তত আগামী
বছর পশ্চিমবঙ্গ
রাজ্যে বিধানসভা
নির্বাচন পর্যন্ত
অপেক্ষা করতে
হতে পারে
এমন শঙ্কাও
আছে অনেকের।
তবু আজ
নরেন্দ্র মোদির
সঙ্গে একান্ত
বৈঠকে গত
শুষ্ক মৌসুমে
তিস্তার পানিপ্রবাহ
ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া, তিস্তা ও
ফেনী নদীর
পানিবণ্টনে প্রত্যাশার বিষয়টি তুলতে পারেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার
সকালে পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে মোদির সফর নিয়ে সংবাদ
সম্মেলনেও তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে
প্রশ্ন ওঠে।
সাংবাদিকরা জানতে চান, চুক্তি না
হওয়ায় বাংলাদেশ
হতাশ কি
না? চুক্তি
না হওয়া
কি বাংলাদেশের
কূটনৈতিক ব্যর্থতা?
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী
বলেন, ‘কূটনীতি
প্রকাশ্যে হয় না। চোখের আড়ালে
হয়। তিস্তা
নিয়েও আপনাদের
চোখের আড়ালে
আলোচনা চলছে।
আলোচনা চলতে
দিন, সাফল্য
আসবে। আমরা
অবশ্যই আশাবাদী।
আপনাদের আরো
ধৈর্য ধরতে
হবে।’
জানা গেছে, বৈঠকে
যৌথ নদী
কমিশনের (জেআরসি)
৩৮তম বৈঠক,
ফেনী নদীর
পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর ও গঙ্গা
ব্যারাজ প্রকল্প
নিয়েও আলোচনা
হতে পারে।
এ বিষয়গুলো
সফর শেষে
যৌথ বিবৃতিতে
স্থান পেতে
পারে।
এ ছাড়া অভিন্ন
নদ-নদীগুলোর
অববাহিকা ব্যবস্থাপনা,
টিপাইমুখ জলবিদ্যুৎ
প্রকল্প, আন্তর্জাতিক
অন্য নদ-নদীগুলোর পানিবণ্টন,
আন্তনদী সংযোগ,
কহুয়া নদীর
বাঁধ সংরক্ষণ
কাজ, অন্যান্য
নদীর বাঁধ
সংরক্ষণ কাজ,
সাবরুম শহরের
জন্য পানি
উত্তোলন, সুরমা-কুশিয়ারা উজান
প্রকল্প নিয়ে
আলোচনা হবে
এবং যৌথ
বিবৃতিতে স্থান
পাবে। ভারতীয়
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, আত্রাই
নদীর পানি
যাতে ভারত
ঠিকমতো পায়
সে জন্য
মমতার অনুরোধে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা
বলবেন নরেন্দ্র
মোদি। তিস্তার
ব্যাপারে অনড়
অবস্থানের মধ্যে আত্রাই নদী নিয়ে
মমতার আগ্রহকে
দেখা হচ্ছে
জল ঘোলা
করার চেষ্টা
হিসেবে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি
মাসে মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার
সঙ্গে বৈঠকে
বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না
হলে তিস্তা
চুক্তি স্বাক্ষরে
তাঁর কোনো
আপত্তি নেই।
২০১১ সালে
মনমোহন সিংয়ের
ঢাকা সফরের
সময় তিস্তা
ও ফেনী
নদীর পানিবণ্টন
চুক্তি স্বাক্ষরের
বিষয়টি প্রায়
চূড়ান্ত ছিল।
দুই দেশের
প্রাপ্য হিস্যাও
ঠিক হয়েছিল
সচিবপর্যায়ের বৈঠকে। কিন্তু সে সময়
মমতার আপত্তিতে
তা ভেস্তে
যায়। ফলে
যৌথ নদী
কমিশনের মন্ত্রিপর্যায়ের
বৈঠক আর
অনুষ্ঠিত হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়,
২০১১ সালে
বাংলাদেশ ও
ভারত- উভয়
দেশই তিস্তা
চুক্তির খসড়া
চূড়ান্ত করেছিল।
সেই খসড়াতেই
বাংলাদেশ তিস্তা
চুক্তি স্বাক্ষর
করতে চায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ওই খসড়ায়
উল্লিখিত হিস্যায়
তাঁর রাজ্যের
স্বার্থ ক্ষুণ্ন
হয় বলে
আপত্তি জানিয়েছিলেন।
এখন তাঁর
রাজ্যের স্বার্থ
রক্ষা করতে
ওই খসড়ায়
পরিবর্তন আনতে
তিনি প্রস্তাব
দেবেন কি
না এবং
বাংলাদেশ তাতে
রাজি হয়
কি না
তাও প্রশ্নসাপেক্ষ।
গতকাল ঢাকায়
সংবাদ সম্মেলনে
ইতিপূর্বে সম্মত খসড়াতেই বাংলাদেশ তিস্তা
চুক্তি করবে
কি না
জানতে চাইলে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও বলেন,
এ নিয়ে
দুই দেশের
মধ্যে আলোচনা
চলছে।
উল্লেখ্য, চার দশকেরও
বেশি সময়
পেরিয়ে গেলেও
বাংলাদেশ ও
ভারতের ৫৪টি
নদ-নদীর
মধ্যে মাত্র
একটির পানিবণ্টনে
চুক্তি করা
সম্ভব হয়েছে।
পানির অভাবে
নদ-নদীগুলো
শুকিয়ে যাচ্ছে।
প্রভাব পড়ছে
দুই তীরের
মানুষের জীবন-জীবিকায়। কূটনৈতিক
সূত্রগুলোর মতে, চাহিদা ও প্রাপ্যতার
বিশাল পার্থক্যের
কারণে পানি
এখন অত্যন্ত
স্পর্শকাতর ইস্যু। এখনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনার
ভিত্তিতেই সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশ আস্থাশীল
আছে।
No comments:
Post a Comment