মার্কিনীদের ডিএনএ-তেই রয়েছে বর্ণবৈষম্যের বীজ: ওবামা
যুক্তরাষ্ট্রে বিরাজমান বর্ণবৈষম্য নিয়ে আগেও বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০১৪ সালের আগস্টে ফার্গুসনে পুলিশের হাতে এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ নিহত হবার পর পরোক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকারোক্তি দেন, বর্ণবৈষম্য নিয়ে অনেক কিছু করার আছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে এবার মার্কিন সমাজের বর্ণবাদ নিয়ে স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ মন্তব্য করলেন তিনি। ওবামা বলেছেন, বর্ণবৈষম্যের বীজ এখনও মার্কিনীদের ডিএনএ-তে রয়ে গেছে। কেবল তাই নয়, সমস্যার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে নিষিদ্ধ 'নিগার' শব্দটি উচ্চারণ করতেও ছাড়লেন না যুক্তরাষ্ট্রের সর্বপ্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট৷
গেল সপ্তাহে একটি জনপ্রিয় 'পডকাস্ট' অনুষ্ঠানে কমেডিয়ান মার্ক ম্যারনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ওবামা৷ সোমবার সে সাক্ষাৎকারের পূর্ণাঙ্গ ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ম্যারনের সঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে সাউথ ক্যারোলিনায় শ্বেতাঙ্গ তরুণ ডিলান রুফের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য নির্মিত একটি চার্চের ন'জন সদস্যের হত্যার প্রসঙ্গটি উঠে আসে। আর সে প্রসঙ্গটি আসতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বৈষম্য রয়েছে। আর তা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে ছায়ার মত লেগে আছে। বর্ণবিদ্বেষের রোগ থেকে এখনও মুক্ত হইনি আমরা৷ এটা শুধু ভদ্রতাবশত জনসমক্ষে 'নিগার' না-বলা, বা বাড়াবাড়ি রকম বৈষম্য দেখানোর ব্যাপার নয়৷ বর্ণবিদ্বেষ রয়েছে কি নেই, তা এগুলো থেকে বোঝা শক্ত৷ ২০০-৩০০ বছর ধরে যা চলে এসেছে, তা সমাজ রাতারাতি মুছে ফেলতে পারে না৷'
এই প্রসঙ্গে মার্কিনীদের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে মার্কিন কংগ্রেসের 'নিষ্ক্রিয়তা'রও সমালোচনা করেন ওবামা৷ তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর আর কোন উন্নত দেশে প্রতিনিয়ত এধরনের গোলাগুলির ঘটনা সহ্য করা কিংবা একে স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়া হয় না।’ অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়াতে গোলাগুলির ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনা সবাইকে এতটাই আহত করেছিল যে দেশটি তাদের বন্দুক আইন পরিবর্তন করে ফেলেছিল।অথচ মার্কিন জনগণ থেকে চাপ না আসলে কংগ্রেস থেকে এধরনের কোন আইন পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।’
মার্কিন বন্দুক মালিকদের বেশিরভাগের সম্মতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট এবং মৌলিক কিছু দিক যোগ করে গুলি নিরাপত্তা আইন জোরালো করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
No comments:
Post a Comment