Monday, June 8, 2015

আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস হচ্ছে যে ১২টি বদভ্যাসে

আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস হচ্ছে যে ১২টি বদভ্যাসে

আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস হচ্ছে যে ১২টি বদভ্যাসে
পেশাজীবনে নানা বদভ্যাসের শিকার আমরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেউ-ই এ বিষয়ে সচেতন থাকেন না। এমন অনেক বাজে অভ্যাসের কারণে আমাদের সম্পর্ক, কাজের গতি, উৎপাদনশীলতা ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্যারিয়ার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিলভিয়া হেপলারের মতে, এমনকি এসব অভ্যাসের কারণে চাকরিটা পর্যন্ত খোয়াতে হতে পারে। এখানে জেনে নিন এমনই ১০টি সাধারণ বদভ্যাসের কথা।
১. অফিসে বসের অগোচরে তাকে নিয়ে নানা সমালোচনা এবং গসিপের জন্ম দেওয়া ভালো লক্ষণ নয়। এই অভ্যাস আপনাকে বিপদগ্রস্ত করে দেবে। যদি এই অভ্যাস থাকে তবে প্রমোশন বা ভালো ক্যারিয়ার আশা করবেন না।
২. অনেকেই আছেন যারা এমন অভিনয় করেন যে, তিনি নতুন কোনো কাজ ভালো করে বুঝে উঠতে পারছেন না। কাজ এড়িয়ে যাওয়ার জন্যে এমন করলে শেষ পর্যন্ত তা সুযোগ আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বিষয়টি আপনার দক্ষতা এবং নতুন কিছু শিখে ওঠার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
৩. অন্যান্য কর্মীদের ওপর দোষ চাপানো শুভ লক্ষণ নয়। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার অর্থ আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং পেশাদার আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। এ ক্ষেত্রে অন্যের চোখে আপনি এমন এক কর্মী হিসাবে বিবেচিত হবেন যিনি কোনো কিছু মেনে নিতে পারেন না।
৪. মনে আবেগ চেহারা ও আচরণের স্পষ্ট করে তোলা পেশাদার আচরণ নয়। বস, সহকর্মী, অধিনস্তদের সামনে যদি আবেগ ধরে না রাখতে পারেন, তবে তা পেশাগত জ্ঞানের অভাব বলে বিবেচিত হবে।
৫. কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি নিজেকে নিজেই অসমর্থ বলে মনে করেন, তবে নিজের পায়ে নিজের কুড়াল মারা হবে।
৬. ক্রমাগত অভিযোগ করে যাওয়ার অর্থ আপনি সমাধানে আন্তরিক নন অথবা সমস্যা মেটানোর পথ বের করতে পারেন না। তাই যা করতে পারবেন না তাকে দোষারোপ করবেন না। বরং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনে গঠনমূলক পরামর্শ দিন।
৭. কাজ কখনো থেকে থাকে না। নিজের যোগ্যতা প্রদর্শিত হয় প্রতিনিয়ত আপনি কিভাবে কাজ করছেন তার ওপর। অনেকেই সঠিক পরিস্থিতির জন্যে অপেক্ষা করেন এবং এর জন্যে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকেন। কিন্তু এ সুযোগে অন্যরা লক্ষ্য হাসিল করে নেয়।
৮. কোনো কাজে সিদ্ধান্তহীনতা, ভয় পাওয়া বা দোটানায় থাকা আপনার সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে হতাশ করে তুলবে। আবার অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাস দেখানোও ভালো নয়।
৯. বর্তমান চাকরির প্রতি ঘৃণা জন্মালে তা অফিসে আপনার আচরণ ও কথাবার্তায় প্রকাশ পাবে। সে ক্ষেত্রে সেখানে আপনার কোনো স্থান হওয়ার কথা নয়।
১০. আবার বর্তমান চাকরি পছন্দ না হলে নতুন চাকরিও খুঁজে নিতে পারেন। কিন্তু এর চেয়ে ভালো চাকরি খুঁজে পাবেন না বলে মনে করা আত্মবিশ্বাসের অভাব প্রকাশ করে। আপনা যে দক্ষতা এবং মেধা রয়েছে তার প্রতি ভরসা রাখতে হবে। নইলে বর্তমান চাকরিটাও খোয়াতে হবে।
১১. মাথায় যে সব আইডিয়া আসে তা নিয়ে চুপ করে বসে থাকার সিদ্ধান্তটি আত্মঘাতী। প্রতিষ্ঠানে কোনো বাজে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ বা নিজের মতামত নিজের মধ্যে রেখে দেওয়ার কারণে আপনি এক সময় নিষ্ক্রিয় কর্মী বলে বিবেচিত হবেন। তাই সব সময় চুপ হয়ে থাকবেন না।
১২. যদি একটি চাকরি বেশি দিন না করে অপর একটি শুরু করতে চান, তাহলে বর্তমান চাকরিতে কি করে গেলেন তা একটি বড় বিষয়। আবার অন্যটাতে চলে যাবেন বলে বর্তমান চাকরিতে যদি কোনো কাজ না করেন, তবে পরের চাকরিতে আপনার কর্মময় জীবনের কোনো উদাহরণ দেখাতে পারবেন না। তাই একের পর এক চাকরি বদলানোর চিন্তা থাকলেও বর্তমান চাকরিতে পেশাদার থাকতে হবে। 

No comments:

Post a Comment